সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাসের শেষ দিকে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ও শৈত্য প্রবাহের পূর্বাভাস
আপনাদের সহযোগী আবহাওয়া বিশ্লেষক মোঃশাকিল হোসেন
প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মে শীত আসে ঘন কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে। শীতের সময় কুয়াশা তৈরি হয়। কুয়াশার সৌন্দর্য ছাড়া শীতের কথা যেন ভাবাই যায় না। শীতে তাপমাত্রা কম থাকে এবং মাটিতে থাকা আর্দ্রতা উপরে উঠে গিয়ে কুয়াশা তৈরি করে। পৃথিবীর সর্বাধিক কুয়াশাচ্ছন্ন স্থান হল নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্র্যান্ড ব্যাংকস, যেখানে উত্তর দিক থেকে আসা শীতল লাব্রাডর প্রবাহ ও দক্ষিণ দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ গালফ প্রবাহ মিলিত হয়।
সর্বাধিক কুয়াশাচ্ছন্ন ভূমি অঞ্চলের মধ্যে আছে পয়েন্ট রেয়েস, ক্যালিফোর্নিয়া। আর্জেন্টিনা, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও লাব্রাডর অঞ্চলে বছরের ২০০ দিনই কুয়াশায় ঢাকা থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনেও কুয়াশা তৈরি হয়। মাটির তুলনায় বাতাসে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে যে কুয়াশা তৈরি হয় এবং ভেসে বেড়ায়, তা ভারত থেকে বাতাসের তোড়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এবারের কুয়াশা আসবে সাইবেরিয়া থেকে।
এই বছরের মত নভেম্বরের শেষের দিকে উত্তর অঞ্চলের রাজশাহী, দিনাজপুর এবং পঞ্চগড়ের মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের সময় সন্ধ্যা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকবে চারপাশ। কোথাও কোথাও দিনের বেলাও কুয়াশা দেখা যাবে।
আগামী ২৫ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ তৈরি হবে এই প্রভাবে
আসন্ন নভেম্বরের শেষ ভাগে দেশের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে, বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও বরিশাল জেলাগুলোতে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানাচ্ছে সর্বশেষ বৈশ্বিক আবহাওয়া মডেল।
GFS (Global Forecast System) মডেলের ১১ নভেম্বরের ১২Z রান অনুযায়ী দেখা গেছে, ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ও আর্দ্রতা প্রবেশের ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল বা বিকেল থেকে রাতের দিকে বজ্রপাতসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
মডেল বিশ্লেষণে দেখা যায়:
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, নদীয়া ও বীরভূম অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল আর্দ্র বায়ু প্রবেশ করতে পারে।
এই প্রভাবে রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জ ও মধ্যাঞ্চলীয় এলাকায় ৫০–১০০ মি.মি. পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
একই সময়ে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের ৮৫০ থেকে ৫০০ hPa স্তরে moisture convergence বাড়ছে এবং CAPE মান (Convective Available Potential Energy) যথেষ্ট অনুকূল অবস্থায় আছে, যা স্থানীয়ভাবে Thunderstorm Cell তৈরি করতে সহায়তা করবে।
তবে এই বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও, বৃষ্টির পর ডিসেম্বরের শুরু থেকে দেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করে শীতের আগমন ঘটতে পারে।
“GFS ও ECMWF উভয় মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির কার্যক্রম দেখা যেতে পারে।
এটি নভেম্বর মাসের স্বাভাবিক ধারার তুলনায় ব্যতিক্রমধর্মী হলেও আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল ধারা হিসেবে একে তাৎপর্যপূর্ণ ধরা যায়।”
এই বিষয়ে আমি গভীর ভাবে নজর রাখছি।

Comments